$0 Bangladesh — Estate Settlement Checklist

হেবা দলিল কিভাবে করবেন — নিয়ম ও রেজিস্ট্রি খরচ

হেবা দলিল কিভাবে করবেন — নিয়ম ও রেজিস্ট্রি খরচ

জীবদ্দশায় নিজের সম্পত্তি প্রিয় কাউকে হস্তান্তর করতে চাইলে অনেকেই বিভ্রান্ত হন — এটি কি উইল হবে, নাকি অন্য কোনো দলিল দরকার। মুসলিম আইনে এই ধরনের জীবনকালীন দানের জন্য নির্দিষ্ট একটি দলিল আছে, যাকে বলা হয় হেবা। উত্তরাধিকার নিয়ে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়াতে অনেক পরিবার আগে থেকেই হেবার মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করে রাখে। এই লেখায় হেবা দলিল করার নিয়ম ও খরচ ব্যাখ্যা করা হলো।

হেবা কী এবং কেন করা হয়

হেবা হলো জীবদ্দশায় নিজের সম্পত্তি অন্য কাউকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও কোনো প্রতিদান ছাড়াই হস্তান্তর করা। এটি উইল থেকে মৌলিকভাবে আলাদা — উইল কার্যকর হয় দাতার মৃত্যুর পর, কিন্তু হেবা কার্যকর হয়ে যায় জীবদ্দশাতেই, দলিল সম্পাদনের সাথে সাথে। তাই মুসলিম আইনে উইলের এক-তৃতীয়াংশের সীমাবদ্ধতা হেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় — একজন ব্যক্তি চাইলে তার সম্পূর্ণ সম্পত্তিও হেবা করতে পারেন।

সাধারণত রক্তের সম্পর্কের নিকটাত্মীয়দের মধ্যে হেবা করা হয় — যেমন স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, সন্তান, ভাই-বোন, দাদা-দাদী বা নানা-নানী। বিশেষ করে বাবা-মা তাদের কোনো সন্তানকে জীবদ্দশাতেই নির্দিষ্ট সম্পত্তি দিয়ে যেতে চাইলে হেবা একটি সাধারণ ও আইনসম্মত পদ্ধতি।

হেবা কার্যকর হওয়ার তিনটি শর্ত

হেবা আইনগতভাবে কার্যকর হতে হলে তিনটি উপাদান অবশ্যই থাকতে হবে:

  1. দাতার ঘোষণা: দাতা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করবেন যে তিনি নির্দিষ্ট সম্পত্তি হেবা করছেন।
  2. গ্রহীতার গ্রহণ: যাকে সম্পত্তি দেওয়া হচ্ছে, তিনি তা গ্রহণ করছেন এই সম্মতি থাকতে হবে।
  3. দখল হস্তান্তর: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত — সম্পত্তির প্রকৃত দখল দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে।

এই তিনটি শর্তের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে হেবা আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মৃত্যুশয্যায় বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে করা হেবা পরবর্তীতে অন্য ওয়ারিশরা আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

হেবা দলিল করার ধাপ

  1. দাতা ও গ্রহীতা উভয়ে মিলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাবেন।
  2. হেবা ঘোষণাপত্র দলিল প্রস্তুত করে দাতার স্বাক্ষর ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পাদন করতে হবে।
  3. দলিলে সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ (খতিয়ান, দাগ নম্বর, পরিমাণ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
  4. সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হবে।
  5. রেজিস্ট্রির পর গ্রহীতার নামে নামজারি করে খতিয়ান হালনাগাদ করতে হবে।

বিনামূল্যে ডাউনলোড

Bangladesh — Estate Settlement Checklist নিন

এই পুরো লেখাটি প্রিন্টযোগ্য চেকলিস্ট হিসেবে — সঙ্গে অ্যাকশন প্ল্যান ও রেফারেন্স গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।

রেজিস্ট্রি খরচ কত

হেবা দলিলের সরকার নির্ধারিত খরচের মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন ফি ১০০ টাকা, স্ট্যাম্প শুল্ক ১,০০০ টাকা, হলফনামা ফি ৩০০ টাকা (৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে প্রস্তুত করতে হয়), এবং ই-ফি ১০০ টাকা। এছাড়া দলিলের প্রতি পৃষ্ঠার জন্য এন-ফি ২৪ টাকা এবং এনএন-ফি ৩৬ টাকা যোগ হয়। মোট খরচ দলিলের পৃষ্ঠাসংখ্যার উপর নির্ভর করে সামান্য উঠানামা করলেও, সাধারণভাবে এটি বণ্টননামা দলিল বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির তুলনায় তুলনামূলক সহজলভ্য।

হেবা করার আগে যা মাথায় রাখা উচিত

হেবা একবার সম্পন্ন হয়ে গেলে তা প্রত্যাহার করা সাধারণত কঠিন, বিশেষ করে দখল হস্তান্তরের পর। তাই হেবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করে নেওয়া ভালো, যাতে দাতার মৃত্যুর পর অন্য ওয়ারিশরা এটিকে অন্যায্য মনে করে আদালতে চ্যালেঞ্জ না করেন। বিশেষভাবে মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় করা হেবা নিয়ে ভবিষ্যতে বিরোধের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তাই সুস্থ অবস্থায় এবং পরিকল্পিতভাবে হেবা সম্পন্ন করাই নিরাপদ।

হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের নমুনা খসড়া, তিনটি শর্ত পূরণের প্রমাণ সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং সঠিক খরচ হিসাবসহ সম্পূর্ণ নির্দেশনা পেতে আমাদের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টন গাইড দেখুন।

Bangladesh — Estate Settlement Checklist বিনামূল্যে নিন

Bangladesh — Estate Settlement Checklist ডাউনলোড করুন — চেকলিস্ট, টেমপ্লেট ও অ্যাকশন প্ল্যানসহ প্রিন্টযোগ্য গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।

আরও জানুন →