$0 Bangladesh — Estate Settlement Checklist

উইল দলিল ও অছিয়তনামা — কিভাবে করবেন এবং প্রবেট করার নিয়ম

উইল দলিল ও অছিয়তনামা — কিভাবে করবেন এবং প্রবেট করার নিয়ম

উইল বা অছিয়তনামা এমন একটি দলিল, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের মৃত্যুর পর সম্পত্তি কীভাবে বণ্টিত হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে যান। তবে বাংলাদেশে মুসলিম আইনে উইলের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, এবং উইল থাকলেই তা কার্যকর করতে আদালতের একটি বাড়তি ধাপ — প্রবেট — পার হতে হয়। এই লেখায় উইল তৈরি ও প্রবেট করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো।

উইল দলিল কিভাবে করবেন

উইল বা অছিয়তনামা তৈরির জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি ফরম নেই, তবে এটি লিখিত আকারে হওয়া এবং দাতার স্বাক্ষরসহ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পাদিত হওয়া প্রয়োজন। প্রক্রিয়াটি সাধারণত এভাবে হয়:

  1. দাতা তার সম্পত্তির তালিকা এবং কাকে কতটুকু দিতে চান তা স্পষ্টভাবে লিখিত আকারে উল্লেখ করেন।
  2. দলিলে দাতা ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
  3. দলিলটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক না হলেও, রেজিস্ট্রি করা থাকলে ভবিষ্যতে এর সত্যতা নিয়ে বিরোধের ঝুঁকি কম থাকে।

মুসলিম আইনে উইলের সীমাবদ্ধতা

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে একজন ব্যক্তি তার মোট সম্পত্তির সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) অংশ উইল করতে পারেন। এর বেশি অংশ উইল করতে হলে, অথবা কোনো প্রকৃত ওয়ারিশের অনুকূলে উইল করতে হলে, দাতার মৃত্যুর পর অন্য সকল ওয়ারিশের লিখিত বা মৌখিক সম্মতি প্রয়োজন। এই সম্মতি ছাড়া করা উইল আইনত অবৈধ বলে গণ্য হয়। তাই উইল তৈরির সময় এই এক-তৃতীয়াংশের সীমা মাথায় রাখা জরুরি — অতিরিক্ত অংশ উইল করলে তা পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে।

অছিয়তনামা বনাম উইল

বাংলায় "উইল" ও "অছিয়তনামা" (Wasiyat) শব্দ দুটি একই অর্থে ব্যবহৃত হয় — উভয়ই মৃত্যুর পর কার্যকর হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তরের ইচ্ছাপত্র। এটি হেবা থেকে আলাদা, কারণ হেবা জীবদ্দশাতেই কার্যকর হয়ে যায়, আর উইল বা অছিয়তনামা কার্যকর হয় দাতার মৃত্যুর পর।

বিনামূল্যে ডাউনলোড

Bangladesh — Estate Settlement Checklist নিন

এই পুরো লেখাটি প্রিন্টযোগ্য চেকলিস্ট হিসেবে — সঙ্গে অ্যাকশন প্ল্যান ও রেফারেন্স গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।

উইল প্রবেট কী এবং কেন প্রয়োজন

কোনো মৃত ব্যক্তি বৈধ উইল রেখে গেলে, সেই উইলের ভিত্তিতে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে হলে জেলা জজ আদালত থেকে প্রবেট (Probate) সংগ্রহ করতে হয়। প্রবেট মূলত আদালতের একটি সার্টিফিকেট, যা প্রমাণ করে যে উইলটি বৈধ এবং দাতার প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন। প্রবেট ছাড়া উইলের ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা বা জমি নামজারি করা সম্ভব নয়।

যদি মৃত ব্যক্তি কোনো উইল না রেখে যান, কিন্তু স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে জটিলতা থাকে, তবে "লেটার্স অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন" (Letters of Administration) নামে একটি ভিন্ন আদালতি অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়।

প্রবেট আবেদনের ধাপ

  1. উইল দলিল, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদসহ জেলা জজ আদালতে আবেদন দাখিল করতে হয়।
  2. আদালত প্রয়োজনে পত্রিকায় নোটিশ প্রকাশ করে অন্য কোনো আপত্তি আছে কিনা যাচাই করে।
  3. কোনো আপত্তি না থাকলে এবং উইলের বৈধতা নিশ্চিত হলে আদালত প্রবেট মঞ্জুর করেন।

এই প্রক্রিয়া সাধারণত সাকসেশন সার্টিফিকেটের মতোই সময়সাপেক্ষ এবং একজন আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া সম্পন্ন করা কঠিন।

কখন আইনজীবীর সহায়তা অপরিহার্য

উইলের বৈধতা নিয়ে কোনো ওয়ারিশ আপত্তি জানালে, বা উইলে এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা থাকলে, প্রবেট মামলার শুনানিতে প্রতিনিধিত্বের জন্য অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ করা প্রায় অপরিহার্য। সাধারণ উইল তৈরির ক্ষেত্রে আইনজীবী ছাড়াও কাজ চালানো সম্ভব, তবে প্রবেট মামলায় আদালতের আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলার জন্য পেশাদার সহায়তা নেওয়াই বাস্তবসম্মত।

উইল তৈরির সঠিক ফরম্যাট, এক-তৃতীয়াংশ সীমার হিসাব এবং প্রবেট আবেদনের সম্পূর্ণ চেকলিস্টসহ বিস্তারিত নির্দেশনা পেতে আমাদের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টন গাইড দেখুন।

Bangladesh — Estate Settlement Checklist বিনামূল্যে নিন

Bangladesh — Estate Settlement Checklist ডাউনলোড করুন — চেকলিস্ট, টেমপ্লেট ও অ্যাকশন প্ল্যানসহ প্রিন্টযোগ্য গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।

আরও জানুন →