$0 Bangladesh — Funeral Planning Checklist

মৃত ব্যক্তির আয়কর রিটার্ন — বাংলাদেশে কখন এবং কীভাবে দাখিল করবেন

মৃত ব্যক্তির আয়কর রিটার্ন

স্বজনের মৃত্যুর পর পরিবার যখন মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবমুক্তি নিয়ে ব্যস্ত, তখন একটি দায়িত্ব প্রায়ই অনেকের নজর এড়িয়ে যায় — মৃত ব্যক্তির বকেয়া আয়কর রিটার্ন দাখিল করা। সময়মতো এটি না করলে জরিমানা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরে আইনি বাধা তৈরি হতে পারে।

কে দাখিল করবে

মৃত ব্যক্তির আইনসম্মত উত্তরাধিকারী বা তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি (legal representative) মৃত ব্যক্তির হয়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। সাধারণত এই দায়িত্ব বর্তায়:

  • জীবিত স্ত্রী বা স্বামী — যদি যৌথ সম্পত্তি বা আয়ের উৎস থাকে
  • বড় সন্তান বা পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্য — যাকে পরিবার অনুমোদন দেয়
  • আইনজীবী বা কর উপদেষ্টা — জটিল কেসে পেশাদার সহায়তা নেওয়া উচিত

উত্তরাধিকারীকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (NBR) মৃত ব্যক্তির TIN (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) ব্যবহার করে রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

কী কী নথি প্রয়োজন

রিটার্ন দাখিলের সময় নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখুন:

  1. মৃত ব্যক্তির TIN সার্টিফিকেট — জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করা যায়
  2. সরকারি মৃত্যু নিবন্ধন সনদ — bdris.gov.bd থেকে প্রাপ্ত ১৭ ডিজিটের নম্বর সহ
  3. ওয়ারিশান সনদ — স্থানীয় সরকার থেকে প্রাপ্ত (১৫-৩০ দিনে তৈরি হয়)
  4. মৃত ব্যক্তির ব্যাংক স্টেটমেন্ট — মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত
  5. আগের বছরের আয়কর রিটার্নের কপি — যদি থাকে
  6. সম্পদ বিবরণী — জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ইত্যাদির তথ্য

কোন সময়ের আয় অন্তর্ভুক্ত হবে

মৃত ব্যক্তির রিটার্নে সেই আয়বর্ষের শুরু (সাধারণত ১ জুলাই) থেকে মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত অর্জিত আয় অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এর মধ্যে থাকতে পারে:

  • বেতন বা পেনশন (মৃত্যু পর্যন্ত প্রাপ্ত অংশ)
  • ব্যাংকের সুদ বা মুনাফা
  • ব্যবসায়িক আয়
  • বাড়ি ভাড়ার আয়
  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফা

বিনামূল্যে ডাউনলোড

Bangladesh — Funeral Planning Checklist নিন

এই পুরো লেখাটি প্রিন্টযোগ্য চেকলিস্ট হিসেবে — সঙ্গে অ্যাকশন প্ল্যান ও রেফারেন্স গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।

ই-রিটার্ন দাখিলের ধাপ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-রিটার্ন পোর্টালে মৃত ব্যক্তির TIN ব্যবহার করে লগইন করা যায়। পদ্ধতি:

  1. etaxnbr.gov.bd পোর্টালে প্রবেশ করুন
  2. মৃত ব্যক্তির TIN ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
  3. নতুন রিটার্ন তৈরি করুন — আয়ের উৎস, খরচ এবং সম্পদের তথ্য পূরণ করুন
  4. মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত আয় হিসাব করুন
  5. রিটার্ন জমা দিন এবং প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংরক্ষণ করুন

পোর্টালে লগইন করতে না পারলে বা পাসওয়ার্ড না জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

রিটার্ন না দিলে কী হবে

মৃত ব্যক্তির রিটার্ন দাখিল না করলে কয়েকটি সমস্যা দেখা দিতে পারে:

  • সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধা — জমির নামজারি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলনের সময় কর ছাড়পত্রের (Tax Clearance) প্রয়োজন হতে পারে
  • জরিমানা — নির্ধারিত সময়সীমার পর দাখিল করলে বিলম্ব জরিমানা যোগ হয়
  • উত্তরাধিকারীদের ওপর দায় — মৃত ব্যক্তির বকেয়া করের দায় আইনত তার সম্পত্তির ওপর বর্তায়, যা উত্তরাধিকারীরা পরিশোধ করতে বাধ্য

কখন কর উপদেষ্টা দরকার

সাধারণ বেতনভোগী ব্যক্তির রিটার্ন উত্তরাধিকারী নিজেই দাখিল করতে পারেন। তবে নিচের পরিস্থিতিতে একজন কর উপদেষ্টা বা আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত:

  • মৃত ব্যক্তির একাধিক আয়ের উৎস ছিল (ব্যবসা, ভাড়া, শেয়ার)
  • বড় অঙ্কের সম্পদ বা দেনা রয়ে গেছে
  • আগের বছরে রিটার্ন দাখিল করা হয়নি
  • উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বিরোধ চলছে

মৃত্যু-পরবর্তী সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া — মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদ থেকে সম্পত্তি বণ্টন পর্যন্ত — ধাপে ধাপে জানতে জানাযা ও দাফন গাইড দেখুন।

Bangladesh — Funeral Planning Checklist বিনামূল্যে নিন

Bangladesh — Funeral Planning Checklist ডাউনলোড করুন — চেকলিস্ট, টেমপ্লেট ও অ্যাকশন প্ল্যানসহ প্রিন্টযোগ্য গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।

আরও জানুন →