উত্তরাধিকার সনদ মামলার কোর্ট ফি হিসাব বাংলাদেশ
উত্তরাধিকার সনদ মামলার কোর্ট ফি হিসাব বাংলাদেশ
মৃত ব্যক্তির ব্যাংক জমা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তি উত্তোলনের জন্য উত্তরাধিকারীদের যৌথ জেলা জজ আদালতে সাকসেশন সার্টিফিকেট (উত্তরাধিকার সনদ) মামলা দায়ের করতে হয়। এই মামলার সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো — কোর্ট ফি ঠিক কত পড়বে তা আগে থেকে স্পষ্ট না থাকা। অনেক পরিবার আইনজীবী বা দালালের কথায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফেলে, কারণ তারা নিজেরা হিসাবটি যাচাই করতে পারেন না। এই লেখায় সাকসেশন আইন, ১৯২৫ এবং কোর্ট ফি আইন, ১৮৭০ অনুযায়ী সঠিক হিসাব পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো।
কোর্ট ফি নির্ধারণের সূত্র
মৃত ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্যমান (V) এর ভিত্তিতে কোর্ট ফি (F) নির্ধারিত হয় নিম্নরূপ:
- সম্পত্তির মূল্য ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হলে: কোনো কোর্ট ফি নেই (০%)
- ২০,০০১ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হলে: মূল্যের ১%
- ১,০০,০০০ টাকার বেশি হলে: মূল্যের ২%
এই ফির সাথে অতিরিক্ত ১৫% ভ্যাট যুক্ত হয়, যা মূল কোর্ট ফির উপর গণনা করা হয়।
সর্বোচ্চ কোর্ট ফির সীমা
কোর্ট ফি আইন, ১৮৭০-এর ১ম তফসিলের টেবিল বি অনুযায়ী কোর্ট ফির একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত আছে — যত বড় সম্পত্তিই হোক না কেন, মূল কোর্ট ফি কখনোই ৪০,০০০ টাকার বেশি হবে না। এই সর্বোচ্চ ফির সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ করলে সর্বোচ্চ মোট প্রদেয় ফি দাঁড়ায় ৪৬,০০০ টাকা।
হিসাবের উদাহরণ
ধরা যাক, মৃত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে মোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৮০,০০০ টাকা। এক্ষেত্রে:
- ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত: ফি প্রযোজ্য নয়
- অবশিষ্ট ৬০,০০০ টাকার ১%: ৬০০ টাকা
- ভ্যাট (১৫%): ৯০ টাকা
- মোট প্রদেয় কোর্ট ফি: প্রায় ৬৯০ টাকা
আবার যদি সম্পত্তির মূল্য ৫,০০,০০০ টাকা হয়, তাহলে ১,০০,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে থাকা অংশের উপর ২% হারে ফি বসবে, যা দ্রুত সর্বোচ্চ ৪০,০০০ টাকার সীমায় পৌঁছে যেতে পারে। তাই বড় অঙ্কের সম্পত্তির ক্ষেত্রে আগে থেকেই হিসাব করে রাখলে আদালতে গিয়ে আর্থিক প্রস্তুতির অভাবে বিলম্ব এড়ানো যায়।
বিনামূল্যে ডাউনলোড
Bangladesh — Estate Settlement Checklist নিন
এই পুরো লেখাটি প্রিন্টযোগ্য চেকলিস্ট হিসেবে — সঙ্গে অ্যাকশন প্ল্যান ও রেফারেন্স গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।
মামলার প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
সাকসেশন সার্টিফিকেট মামলার জন্য নিম্নোক্ত নথিপত্র প্রয়োজন হয়:
- ওয়ারিশান সনদ
- মৃত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের বিবরণী
- শেয়ার সার্টিফিকেট বা সঞ্চয়পত্রের কপি
- আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র
মৃত ব্যক্তি যে আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যে বসবাস করতেন বা যে এলাকায় তার অস্থাবর সম্পত্তি অবস্থিত ছিল, সেই জেলার যৌথ জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়। সাধারণত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেড় থেকে তিন মাস সময় লাগে, তবে বিবাদী পক্ষের আপত্তি থাকলে বা শুনানিতে বিলম্ব হলে সময় আরও বাড়তে পারে।
দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলার খরচ
শুধু সাকসেশন সার্টিফিকেট নয়, যদি ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে মতভেদ থাকে এবং আদালতে বাটোয়ারা বা বণ্টন মামলা (Partition Suit) দায়ের করতে হয়, তবে সেই মামলার কোর্ট ফিও সম্পত্তির মূল্যমানের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে আগেভাগে একজন সম্পত্তি বিষয়ক আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ বাটোয়ারা মামলা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে এবং খরচও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হয়।
সঠিক কোর্ট ফি আগে থেকে জানা থাকলে আদালতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির শিকার হওয়া এড়ানো যায়। আমাদের মূল্যের সম্পূর্ণ গাইডে সাকসেশন সার্টিফিকেট মামলা থেকে শুরু করে বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের ফি হিসাব ছক আকারে দেওয়া আছে। উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টন গাইড দেখে নিন।
Bangladesh — Estate Settlement Checklist বিনামূল্যে নিন
Bangladesh — Estate Settlement Checklist ডাউনলোড করুন — চেকলিস্ট, টেমপ্লেট ও অ্যাকশন প্ল্যানসহ প্রিন্টযোগ্য গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।