সাকসেশন সার্টিফিকেট বাংলাদেশ — পাওয়ার নিয়ম ও আদালতের ফি হিসাব
সাকসেশন সার্টিফিকেট বাংলাদেশ — পাওয়ার নিয়ম ও আদালতের ফি হিসাব
মৃত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র বা শেয়ারের মতো অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে গেলে অনেক সময় শুধু ওয়ারিশ সনদে কাজ হয় না — বিশেষ করে যেখানে অর্থের পরিমাণ বেশি বা কোনো নমিনি নেই। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় আদালত থেকে ইস্যু করা সাকসেশন সার্টিফিকেট বা উত্তরাধিকার পত্র। এই প্রক্রিয়া ওয়ারিশ সনদের চেয়ে বেশি সময়সাপেক্ষ এবং আইনি খরচ জড়িত, তাই আগে থেকে পুরো চিত্র জানা থাকলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
সাকসেশন সার্টিফিকেট কখন লাগে
উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর অধীনে পরিচালিত এই সার্টিফিকেট মূলত প্রয়োজন হয় যখন:
- ব্যাংক হিসাবে কোনো নমিনি উল্লেখ নেই, অথবা নমিনি ও প্রকৃত ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে
- সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে হবে এবং নমিনি ব্যতীত অন্য ওয়ারিশরা দাবিদার
- শেয়ার, বন্ড বা অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তি নিজেদের নামে স্থানান্তর করতে হবে
স্থাবর সম্পত্তি (জমি) বণ্টনের জন্য এই সার্টিফিকেট প্রযোজ্য নয় — সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি।
কোন আদালতে আবেদন করতে হবে
মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর সময় যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে বসবাস করতেন, অথবা তার অস্থাবর সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত, সেই এলাকার যৌথ জেলা জজ আদালতে সাকসেশন মামলা দায়ের করতে হয়। আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হয় ওয়ারিশ সনদ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী এবং শেয়ার বা সঞ্চয়পত্রের কপি। আদালত প্রয়োজনে পত্রিকায় নোটিশ প্রকাশ করে অন্য কোনো দাবিদার আছে কিনা যাচাই করে, এরপর সার্টিফিকেট মঞ্জুর করে।
কোর্ট ফি কীভাবে হিসাব হয়
কোর্ট ফি অস্থাবর সম্পত্তির মূল্যমানের উপর নির্ভর করে ধাপে ধাপে হিসাব হয়:
- সম্পত্তির মূল্য ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হলে কোনো ফি নেই
- ২০,০০১ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত অংশে ১% হারে ফি
- ১,০০,০০০ টাকার বেশি অংশে ২% হারে ফি
কোর্ট ফি আইন, ১৮৭০ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ফি ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, এবং এর সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ হয়। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে মোট প্রদেয় ফি দাঁড়ায় প্রায় ৪৬,০০০ টাকা। ছোট অঙ্কের ব্যাংক হিসাবের জন্য এই ফি অনেক কম হবে, তাই আবেদনের আগে প্রকৃত সম্পদের মূল্য হিসাব করে ফি নির্ধারণ করা ভালো।
বিনামূল্যে ডাউনলোড
Bangladesh — Estate Settlement Checklist নিন
এই পুরো লেখাটি প্রিন্টযোগ্য চেকলিস্ট হিসেবে — সঙ্গে অ্যাকশন প্ল্যান ও রেফারেন্স গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।
সময় কত লাগে এবং কী কী মনে রাখতে হবে
সাধারণত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেড় থেকে তিন মাস সময় লাগে — নোটিশ প্রকাশ, শুনানি এবং কোনো আপত্তি না থাকলে চূড়ান্ত আদেশের সময় হিসাব করে। যদি কোনো সহ-ওয়ারিশ আপত্তি জানায় বা মামলাটি বিতর্কিত হয়ে ওঠে, তবে সময় আরও বাড়তে পারে। এই ধরনের মামলায় একজন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়াই বাস্তবসম্মত, কারণ আদালতে আবেদনপত্র প্রস্তুত ও শুনানিতে প্রতিনিধিত্বের জন্য আইনি দক্ষতা প্রয়োজন হয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার — সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সার্টিফিকেটধারী একাই টাকার মালিক। সার্টিফিকেটে উল্লেখিত অর্থ সকল ওয়ারিশের মধ্যে শরিয়াহ বা স্ব-স্ব ধর্মীয় আইন অনুযায়ী বণ্টিত হতে হবে।
সাকসেশন সার্টিফিকেট আবেদনের সম্পূর্ণ চেকলিস্ট, প্রয়োজনীয় নথির নমুনা তালিকা এবং প্রকৃত ফি হিসাবের ক্যালকুলেটরসহ বিস্তারিত নির্দেশনা পেতে আমাদের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টন গাইড দেখুন।
Bangladesh — Estate Settlement Checklist বিনামূল্যে নিন
Bangladesh — Estate Settlement Checklist ডাউনলোড করুন — চেকলিস্ট, টেমপ্লেট ও অ্যাকশন প্ল্যানসহ প্রিন্টযোগ্য গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।