প্রবাসীদের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) করার নিয়ম
প্রবাসীদের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) করার নিয়ম
দেশে থাকা উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে বিদেশে বসবাসকারী ওয়ারিশদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো — সশরীরে দেশে না গিয়ে কীভাবে সম্পত্তি বিক্রি, রক্ষণাবেক্ষণ বা বণ্টনে অংশ নেওয়া যায়। এর সমাধান হলো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা, তবে প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ এবং প্রতিটি ধাপে ভুল হলে পুরো দলিল বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কেন প্রয়োজন
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হলো এমন একটি আইনি দলিল, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি (দাতা) তার সম্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অন্য কাউকে (গ্রহীতা) অর্পণ করেন। প্রবাসী ওয়ারিশদের জন্য এটি অপরিহার্য, কারণ জমি বিক্রি, বণ্টননামা দলিলে স্বাক্ষর বা নামজারির আবেদন — এসবের জন্য বাংলাদেশে সশরীরে উপস্থিতি বা আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি প্রয়োজন হয়।
সত্যায়নের দীর্ঘ চেইন
বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তৈরির প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সত্যায়ন করতে হয়:
স্থানীয় নোটারি পাবলিক: প্রথমে বসবাসরত দেশের নোটারি পাবলিকের সামনে দলিলে স্বাক্ষর ও নোটারাইজেশন করাতে হবে।
স্টেট সেক্রেটারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ: কিছু দেশে নোটারির পর সেই দেশের স্টেট সেক্রেটারি অফিস বা সমমানের কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত সত্যায়ন প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট: এরপর স্থানীয় বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে দলিলটি প্রত্যয়ন করাতে হবে — এই ধাপের ফি সাধারণত ১ থেকে ২ মার্কিন ডলারের মতো নামমাত্র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MoFA): দলিল বাংলাদেশে পাঠানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার শাখা থেকে পুনরায় সত্যতা যাচাই ও সত্যায়ন করাতে হবে।
জেলা প্রশাসকের রাজস্ব কার্যালয়: এরপর নির্ধারিত সরকারি স্ট্যাম্প যুক্ত করতে হবে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন: সবশেষে দলিলটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তিন মাসের মধ্যে স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করতে হবে — নইলে এর কোনো আইনি ভিত্তি থাকবে না।
ফি ও প্রকারভেদ
সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক, হলফনামা ফি এবং ই-ফি মিলিয়ে মোট খরচ কয়েকশ থেকে হাজার টাকার মধ্যে থাকে। যদি এটি অপ্রত্যাহারযোগ্য (Irrevocable) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হয় — অর্থাৎ দাতা একতরফাভাবে বাতিল করতে পারবেন না এমন দলিল — তবে স্ট্যাম্প শুল্ক তুলনামূলক বেশি হয়। কোন ধরনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রয়োজন তা নির্ভর করে গ্রহীতার ক্ষমতার পরিধির উপর — সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা দিতে হলে সাধারণত অপ্রত্যাহারযোগ্য দলিলই প্রয়োজন হয়।
বিনামূল্যে ডাউনলোড
Bangladesh — Estate Settlement Checklist নিন
এই পুরো লেখাটি প্রিন্টযোগ্য চেকলিস্ট হিসেবে — সঙ্গে অ্যাকশন প্ল্যান ও রেফারেন্স গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।
সবচেয়ে সাধারণ ভুল
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার যেকোনো একটি ধাপে নামের বানান বা তথ্যগত সামান্য ভুল থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়ে যায় — এবং যেহেতু বিদেশ থেকে ফের সংশোধন করতে সপ্তাহ বা মাস লেগে যেতে পারে, এই ভুল এড়াতে প্রতিটি ধাপে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে নাম হুবহু মিলিয়ে দেখা জরুরি। এছাড়া অনেকে জানেন না যে দলিলটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তিন মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রি না করলে তা অকার্যকর হয়ে যায় — তাই দূতাবাস সত্যায়ন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা উচিত।
প্রতিনিধি নির্বাচনে সতর্কতা
যাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়া হচ্ছে, তার উপর সম্পূর্ণ আস্থা থাকা জরুরি, কারণ এই দলিলের মাধ্যমে তিনি সম্পত্তি বিক্রি পর্যন্ত করতে পারেন। সাধারণত পরিবারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও স্থানীয়ভাবে বসবাসরত সদস্যকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, এবং দলিলে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ঠিক কোন কোন কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসীদের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির সম্পূর্ণ সত্যায়ন চেকলিস্ট, দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের বিস্তারিত এবং রেজিস্ট্রেশনের ধাপে ধাপে নির্দেশনা পেতে আমাদের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টন গাইড দেখুন।
Bangladesh — Estate Settlement Checklist বিনামূল্যে নিন
Bangladesh — Estate Settlement Checklist ডাউনলোড করুন — চেকলিস্ট, টেমপ্লেট ও অ্যাকশন প্ল্যানসহ প্রিন্টযোগ্য গাইড, আজ থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন।